রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৮:৩৯
সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নয়

প্রয়াত আয়াতুল্লাহ হায়রি শিরাজি মনে করেন, প্রকৃত শিক্ষা ও প্রতিপালনের অর্থ হলো—সন্তানের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি ও অন্তর্নিহিত প্রতিভার বিকাশের পথে থাকা বাধাগুলো দূর করা। অতিরিক্ত নজরদারি, বারবার উপদেশ এবং দ্রুত আচরণ সংশোধনের জন্য সন্তানের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে তার মধ্যে মিথ্যা, ভান ও লোক দেখানো আচরণের প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: আমরা অনেক সময় ‘প্রতিপালন’কে ‘নিজের ইচ্ছামতো গড়ে তোলা’র সঙ্গে গুলিয়ে ফেলি। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ কখনো কখনো অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে রূপ নেয়। অথচ প্রকৃত প্রতিপালনের লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ তৈরি করা।

সন্তানদের নিয়ে এত বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না!
এ বিষয়ে প্রয়াত আয়াতুল্লাহ হায়রি শিরাজি বলেন, প্রতিপালন মানে হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে সন্তানের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য তার পথের বাধাগুলো দূর করতে হবে। কাউকে বারবার কোনো বিষয় বোঝানো, তার ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়া কিংবা জোর করে কিছু শেখানোকে প্রকৃত বিকাশ বলা যায় না।

আপনি যদি কোনো ফুলকে তার স্বাভাবিক সময়ের আগেই জোর করে ফুটিয়ে তুলতে চান, তাহলে সেই ফুলের কী পরিণতি হবে তা আপনি নিজেই জানেন। আপনার সন্তান কিংবা আপনার শিক্ষার্থী সেই ফুলের চেয়েও কোমল ও সংবেদনশীল। অথচ আমরা অনেক সময় এই ‘ফুলগুলোর’ অর্থাৎ সন্তানদের নিয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করি এবং শেষ পর্যন্ত তাদের স্বাভাবিক বিকাশই বাধাগ্রস্ত করি।

অনেক সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, বাবা-মা তাদের নিয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করেন। তাই সন্তানদের নিয়ে অতিরিক্ত ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। তাদের বারবার উপদেশ দেবেন না। তাদের প্রতিটি কাজ খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণও করবেন না। আর যদি নজর রাখেন, তাহলে এমনভাবে রাখুন যেন তারা বুঝতে না পারে যে আপনি তাদের ওপর নজর রাখছেন। দূর থেকে তাদের খেয়াল রাখুন।

সন্তানের কোনো ছোটখাটো ত্রুটি থাকলে, সে যেন সঙ্গে সঙ্গে তা সংশোধন করে ফেলে—এ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হবেন না। সন্তানকে সবসময় অত্যন্ত ভদ্র ও নিখুঁত আচরণ করতে বাধ্য করার জন্য অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করবেন না। কারণ এ ধরনের চাপের ফলে সন্তান ভান করতে, মিথ্যা বলতে এবং লোক দেখানো আচরণ করতে শিখতে পারে।

সূত্র: আয়াতুল্লাহ হায়রি শিরাজি, রাহে রুশদ, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৭।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha